সঞ্জয় কুমার |
আদিতমারী উপজেলা প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লালমনিরহাট-২ আসনের (কালীগঞ্জ ও আদিতমারী) নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। দিন যত এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে প্রচার-প্রচারণা ও ভোটের হিসাব-নিকাশ।
ভোটারদের নীরব সমর্থনে কলম প্রতীকের প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হলেও বিএনপি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে তিস্তা পাড়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে অনুপস্থিত থাকায় ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টির প্রভাব কমে যাওয়ায় ঐতিহ্যগত ভোট ব্যাংকে ভাটার সৃষ্টি হয়েছে।
ফলে লালমনিরহাট-২ আসনের নির্বাচনী ফলাফল অতীতের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের চাঁদাবাজি, সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা, উন্নয়ন বঞ্চনা, দলীয় কোন্দল, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, তিস্তা নদী কেন্দ্রিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি—এসব ইস্যু এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে। এসব বিষয় ঘিরে ভোটারদের জল্পনা-কল্পনায় ভোটের মাঠে বাড়ছে উত্তাপ।
যদিও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তবে দলটির সমর্থকদের বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে যুক্ত করার মাধ্যমে ভোটের আনুপাতিক হার বাড়ানোর চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
লালমনিরহাট-২ সংসদীয় আসন আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। একসময় দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি ২০০১ সাল থেকে নৌকা প্রতীকের দখলে ছিল। দীর্ঘদিন পর এবার এই আসনে নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
মাঠপর্যায়ে ভোটারদের দৃষ্টিতে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রোকনউদ্দিন বাবুল, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু এবং নতুন রাজনৈতিক দল জনতার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামালের মধ্যে।
বিশেষ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দলের নেতা-কর্মীদের মামলা, হামলা ও বিপদে পাশে থাকায় আদিতমারী ও কালীগঞ্জের নেতা-কর্মীরা তার বিজয় নিয়ে আশাবাদী।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু দীর্ঘদিন ধরে আসনভিত্তিক সংগঠন বিস্তৃতি, কোভিডকালীন সহায়তা এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর নিরাপত্তায় উদ্যোগ নেওয়ায় ভোটের মাঠে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রায় ৭৪ হাজার ভোট পেয়ে নৌকা প্রতীকের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি একাধিক শক্ত প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে লালমনিরহাট-২ আসনে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও চমকপ্রদ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © জাতীয় দৈনিক সারাদেশ ৭১