চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সহজ জয় পাওয়ার আশায় থাকা জামায়াতের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বর্তমানে রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন। বাবার পরিচিতি কাজে লাগিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও জাতীয় নির্বাচনে সেই সুবিধা কাজে আসছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১১ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরপরই বাঁশখালীর রাজনৈতিক দৃশ্যপট দ্রুত পাল্টে যেতে থাকে। স্থানীয়ভাবে হাতপাখা প্রতীকের নিজস্ব ভোট প্রায় ৩০ হাজার বলে ধারণা করা হলেও, এই ভোট দিয়েই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া আগে অসম্ভব মনে করা হচ্ছিল। তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও জামায়াতের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
সম্প্রতি জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দলটি নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়ে। ফেনী-২ আসনের এক নির্বাচনী সভায় তিনি জোট রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়ে যে মন্তব্য করেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। নেটিজেনদের প্রশ্ন—জামায়াত কি আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে অবমূল্যায়ন করেছে?
বাঁশখালী একটি আলেম-উলামা অধ্যুষিত এলাকা। এখানে প্রায় ৭০ হাজার কওমী মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ভোটার রয়েছে। এই ভোটারদের বড় অংশের পছন্দের প্রতীক হাতপাখা। হাতপাখার প্রার্থী রুহুল্লাহ তালুকদার একজন কওমী আলেম এবং তাঁর পিতা পুকুরিয়া মুখলেছিয়া মাদরাসার সাবেক মোহতামিম ছিলেন। ফলে কওমী কেন্দ্রিক ভোটের বড় অংশ হাতপাখার বাক্সে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কিছু ধর্মপ্রাণ ভোটারও হাতপাখার পক্ষে ভোট দিতে পারেন, যদিও তারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন না। সাংগঠনিকভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাঁশখালীতে তুলনামূলক দুর্বল হলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হাতপাখার জয় একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নিরলস প্রচারণা চালাতে পারলে হাতপাখার প্রতীক বাঁশখালীর ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। শেষ মুহূর্তে কে হাসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া