লুৎফর সিকদার
ক্রাইম রিপোর্টার্স, গোপালগঞ্জঃ
গোপালগঞ্জে জুয়েলার্স ব্যবসার আড়ালে স্বর্ণ বন্ধক রেখে চড়া সুদে টাকা লেনদেনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। চোখ ধাঁধানো ডেকোরেশন ও ঝলমলে স্বর্ণালংকারের প্রদর্শনীর আড়ালে একাধিক নামিদামি স্বর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সুদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
গোপালগঞ্জ শহরের স্বর্ণপট্টি চৌরাঙ্গী এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি জুয়েলার্স দোকানে প্রকাশ্যে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ের পাশাপাশি স্বর্ণ বন্ধক রেখে উচ্চ সুদে টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের লেনদেনে কোনো লিখিত চুক্তি, ক্যাশমেমো কিংবা সরকারি অনুমোদন নেই। ফলে বিপদের সময় স্বর্ণ বন্ধক রাখা সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে নারীরা—পরবর্তীতে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী অভিযোগ করে জানান, পারিবারিক আর্থিক সংকটে তারা নিজেদের ও পরিবারের সব স্বর্ণালংকার বন্ধক রাখেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদসহ টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা তাদের স্বর্ণ ফেরত না দিয়ে অর্ধেক মূল্যে নিজেদের মালিকানায় নিয়ে নেন। এতে বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে স্বর্ণ বন্ধকের মেয়াদ মাত্র দুই থেকে তিন মাস নির্ধারণ করা হয়। এই সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলেই স্বর্ণ বাজেয়াপ্ত করা হয়।
এভাবে স্বর্ণ ক্রয় ও সুদের টাকার মাধ্যমে অল্প সময়েই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকার মালিক হয়ে উঠছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ সুদের ব্যবসায় শুধু জুয়েলার্স মালিকরাই নয়, বাইরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিও অর্থ বিনিয়োগ করছেন। ফলে এটি একটি সংঘবদ্ধ অবৈধ ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
স্বর্ণ কেনা ও বন্ধক রেখে সুদে টাকা দেওয়ার বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, “নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই, সবাই করে বলেই আমরা করছি।”
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাশমেমো ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া স্বর্ণ কেনা এবং স্বর্ণ বন্ধকের নামে দ্বিগুণ বা ত্রিগুণ সুদ আদায় করা সরাসরি সুদখোরি, যা প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
সচেতন মহল অবিলম্বে এই অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া