ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর দোকানদারদের অর্থনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে। ইরানে অব্যাহত অর্থনৈতিক সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ইলামের আবদানান শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন। বয়স্ক, মহিলা ও শিশুরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। নিরাপত্তা বাহিনী হেলিকপ্টার ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
মালেকশাহি এলাকার একটি সামরিক ঘাঁটিতে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে দোকানিরা লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের মুখোমুখি হন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দাঙ্গাবাজদের কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই বলেছেন, ‘দাঙ্গাবাজদের কোনো দয়া দেখানো হবে না।’
সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার বিভিন্ন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতার অবনতি পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। বিশেষ করে খাবারের তেলের দাম প্রায় তিনগুণ বেড়ে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে বের হওয়া ও নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া