যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা দেশটির ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে মুনিরকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি একযোগে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংশোধনীর ফলে তিনি আজীবনের জন্য ফৌজদারি দায়মুক্তিও পেয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মুনির এখন পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “মুনিরের হাতে বর্তমানে লাগামহীন ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত ক্ষমতা রয়েছে—যা পাকিস্তানের ইতিহাসে বিরল।”
গত কয়েক সপ্তাহে তিনি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্ডান, মিসর ও কাতারের সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠককে গাজায় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন নিয়ে পরামর্শের অংশ হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে গাজায় পাকিস্তানি সেনা পাঠানো হলে দেশের ভেতরে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী ইসলামপন্থি দলগুলো অতীতে বড় ধরনের সহিংস আন্দোলন গড়ে তুলেছে। যদিও সাম্প্রতিক অভিযানে একটি শক্তিশালী ইসলামপন্থি দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের বহু নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন, তবু তাদের আদর্শ এখনও সক্রিয়।
এদিকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলও মুনিরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
সিঙ্গাপুরের এস. রাজরত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক আবদুল বাসিত সতর্ক করে বলেন, “গাজায় বাহিনী মোতায়েনের পর পরিস্থিতি খারাপ হলে পাকিস্তান দ্রুতই একটি জটিল সংকটে পড়তে পারে।”
সূত্র: রয়টার্স
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া