কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ও বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজের দাবি, জেলা প্রশাসক কুড়িগ্রামে যোগদানের পর বিতর্কিত নেতাদের প্রশাসনের আশপাশে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামলার আসামি আমানউদ্দিন মঞ্জুরের ঘনিষ্ঠ সহচর ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল বাতেন সরকার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে প্রকাশ্যে উপস্থিত থাকছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাবেক জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানার সময়ে এসব ব্যক্তিকে প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যেত না। এছাড়া রাজাহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোকসানা বেগম লিপি এবং স্কাউটিং কার্যক্রমের আড়ালে সক্রিয় মোশারফ হোসেন ফারুকসহ আরও কয়েকজন নেতার প্রশাসনিক ঘনিষ্ঠতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আজ ১৬ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম বিজয়স্তম্ভে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মাঝে আব্দুল বাতেন সরকারের অবস্থান জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, সাধারণ রাজনৈতিক পরিচয়ের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তঘেঁষা কুড়িগ্রামের মতো সংবেদনশীল জেলায় প্রশাসনের সামান্য পক্ষপাতও বড় অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে পারে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতারা সরকারের প্রতি নজরদারি ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রামের শিক্ষাবিদ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, “একজন জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রের প্রতিনিধি—কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। বিতর্কিত নেতার প্রকাশ্য উপস্থিতি প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এটি প্রশাসনিক শালীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত।”
ক্যাপশন: গোলাকার বৃত্তে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল বাতেন।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া