চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ছিউনি খাল, সাবানঘাটা, সেগুনবাগান, গয়ালমারা, কাট্টলি ও কোরবানিয়া ঘোনা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ডজন ডজন ডাম্পারযোগে পাচার করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বালু, আর এতে জড়িত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন করমহুরী পাড়া থেকে শুরু করে পাহাড়ি জনপদের বিভিন্ন ছড়ায় বসানো হয়েছে একাধিক সেলু মেশিন। কোথাও শ্রমিকদের বেলচা দিয়ে বালু তুলতে দেখা গেছে। এসব অনিয়ন্ত্রিত উত্তোলনের ফলে পাহাড়ি এলাকা ও ছড়ার দুই পাশে দেখা দিয়েছে ভাঙন। স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিককালে ধসের আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে।
উত্তোলিত বালুগুলো সাবানঘাটা ও সেগুনবাগান এলাকায় মজুত করে প্রতিদিন ৭০–৮০টি ডাম্পারের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যান চলাচলে বাড়ছে বিপত্তি, পাশাপাশি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিবেশও গুরুতর হুমকির মুখে পড়ছে।
'বাধা দিলে হুমকি' – অভিযোগ স্থানীয়দের
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অতীতে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের কারণে বহু আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আবারো সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে—অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিলে হুমকি দেয়া হয়, তাই কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খানে আলম নামের এক ব্যক্তি বলেন, সরকারি ইজারা করা জায়গায় পর্যাপ্ত বালু না মেলায় বিনিয়োগকৃত টাকা উদ্ধার করতেই তারা বালু তুলছেন। তবে তিনি বনাঞ্চলে বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
প্রশাসনের আশ্বাস: ‘আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’
চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব বলেন, “এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, “তদন্তে যদি দেখা যায় বালু উত্তোলন বনভূমির ভেতরে হচ্ছে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন ও পরিবেশ রক্ষায় বন বিভাগ সর্বদা তৎপর।”
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © জাতীয় দৈনিক সারাদেশ ৭১