নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
ভোরে পাতায় শিশির বিন্দু, দুপুরে মিষ্টি রোদ আর হালকা কুয়াশা— সবকিছুই জানিয়ে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় শীতের আমেজ শুরু হতেই খেজুর গাছিদের ব্যস্ততা বেড়েছে। গাছ প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে রস সংগ্রহ পর্যন্ত চলছে কর্মব্যস্ততা।
শীত আর খেজুর রস যেন একে অপরের পরিপূরক। অগ্রহায়ণের শুরুতেই বারহাট্টা উপজেলা সদরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে খেজুর রস আহরণের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। গাছিরা জানান, শীত যত বাড়বে, রসের পরিমাণও তত বাড়বে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেল নামলেই ঠুঙ্গি, বাইলধারা ও দা হাতে গাছিরা ছুটে যাচ্ছেন গাছের দিকে। নিপুণ হাতে গাছের মাথা পরিষ্কার করে বিশ্রাম দিচ্ছেন দুই সপ্তাহের জন্য। এরপর হাঁড়ি বেঁধে রস সংগ্রহের কাজ শুরু করেন।
গাছি সাহেব রহমান বলেন, “প্রতি বছর শীত শুরুতেই প্রায় ৪০-৫০টা গাছ ভাড়া নিয়ে রস সংগ্রহ করি। প্রতিদিন গড়ে ২০-৩০ লিটার রস বিক্রি হয়। এ বছরও ভালো উপার্জনের আশা করছি।”
অন্যদিকে গাছি সুবল দাসের অভিযোগ, “বর্তমান প্রজন্ম আর এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে চায় না। শহরমুখী হয়ে পড়ায় গাছির সংখ্যা কমছে।”
রস কিনতে আসা কলেজ ছাত্র আজাদ বলেন, “ভোরে এক গ্লাস টাটকা খেজুর রস খাওয়ার মজা অনন্য। প্রতি গ্লাস ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল জানান, একসময় বারহাট্টায় অসংখ্য খেজুর গাছ ছিল, কিন্তু ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার ও অবহেলার কারণে গাছের সংখ্যা কমে গেছে। তারা মনে করেন, খেজুর গাছ শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, এটি গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ, যা রক্ষা করা জরুরি।
চিকিৎসক ডা. আবু রায়হান বলেন, “খেজুর রস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হলেও এতে ‘নিপাহ ভাইরাস’ সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তাই অন্তত ৭০-৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ফুটিয়ে খেলে ঝুঁকি কমে যায়।”
শীতের আগমনী বার্তা জানিয়ে বারহাট্টায় গাছিদের এমন ব্যস্ততা শুধু জীবিকার নয়, বরং এক অনন্য ঐতিহ্যেরও প্রতিচ্ছবি।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © জাতীয় দৈনিক সারাদেশ ৭১