নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের নান্দাইলে দেখা গেছে বিরল এক রাজনৈতিক চিত্র। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৫৩ ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচ নেতার মধ্যে চারজন মনোনয়ন না পেয়ে একই মঞ্চে উঠে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন—
১. বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. একে.এম শামসুল ইসলাম সূর্য
২. নাসের খান চৌধুরী
৩. মেজর জেনারেল (অব.) আনোয়ারুল মোমেন
৪. মামুন বিন আব্দুল মান্নান
৫. ইয়াসের খান চৌধুরী
দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইয়াসের খান চৌধুরীকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে বাকি চার প্রার্থী এবং তাঁদের অনুসারীরা শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিয়ে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানান।
সমাবেশে তারা অভিযোগ করেন, তৃণমূলের মতামত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবদান উপেক্ষা করে ‘মনোনয়ন বাণিজ্যের’ মাধ্যমে অজনপ্রিয় প্রার্থীকে নির্বাচনী মাঠে নামানো হয়েছে। বক্তারা বলেন, “নান্দাইল বিএনপির শক্তি হলো তৃণমূল। এই তৃণমূলকে উপেক্ষা করলে আন্দোলন কঠিন আকার ধারণ করবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) আনোয়ারুল মোমেন, সাবেক মেয়র এ এফ এম আজিজুল ইসলাম পিকুল, মামুন বিন আব্দুল মান্নানসহ হাজারো নেতাকর্মী। বিদেশে অবস্থান করায় নাসের খান চৌধুরীর পক্ষ থেকে তার অনুসারীরাও সমাবেশে যোগ দেন।
বক্তব্যে আনোয়ারুল মোমেন বলেন, “ইয়াসের খান ব্যতীত বাকি চারজনের মধ্যে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক, আমরা দলের নির্দেশনা মেনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করবো।”
নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, ইয়াসের খানের হাতে গঠিত কমিটিগুলোয় আওয়ামী লীগপন্থী ব্যক্তিরা যুক্ত হয়েছেন, ফলে ত্যাগী নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও কোন্দল নান্দাইলের নির্বাচনী মাঠে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © জাতীয় দৈনিক সারাদেশ ৭১