গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় একটি প্রভাবশালী মৎস্য খামারের কারণে দুই গ্রামের ৫২টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। উপজেলার মাদারবাড়ী ও জটিয়ারবাড়ি গ্রামের প্রায় ২৪০ বিঘা জমি ঘিরে স্লুইস গেট আটকে মাছের চাষ করায় ঘরের ভেতর পানি জমে বসতবাড়ি, পুকুরপাড় ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়ার বড় ভাই জহুর আলী মিয়ারের নেতৃত্বাধীন ‘মাদারবাড়ী-কুঞ্জবন ভাই ভাই মৎস্য খামার’ প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে বাঁধ পুনর্নির্মাণ করছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে ঘের এলাকার পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রশাসন গত সপ্তাহে বাধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলেও রাতের আঁধারে আবার তা বন্ধ করে দেয় খামার কর্তৃপক্ষ। এমনকি প্রশাসনের দেওয়া ৯টি নির্দেশনার কোনোটিই মানেনি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় খোকন শিকদার বলেন, “পানির ঢলে পাড় ভেঙে গেছে। ঘরের চারপাশে পানি, বীজতলা নষ্ট, মাছের সার ও রাসায়নিকের দুর্গন্ধে জীবন দুর্বিষহ হয়ে গেছে।”
আরেক বাসিন্দা জানান, “ভয়ভীতি ও প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে পারে না। ঘরবাড়ি ভেঙে একাধিক পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।”
অভিযুক্ত মৎস্য খামার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জহুর আলী বলেন, “আমি ওমরাহতে ছিলাম। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেব।”
উপজেলা প্রশাসন জানায়, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, “ঘটনা সত্য হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের দাবি উঠেছে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া