লামা প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের লামা বন বিভাগের অধীনস্থ কাকরাঝিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তত ৪০টি সেগুন গাছ আত্মসাৎ করে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ উঠেছে—ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর নিজের দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ঢাকতে তিনি শ্রমিক মো. উসমান গনিকে সাজানো বন মামলায় ফাঁসিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী উসমান গনি পরে চট্টগ্রাম অঞ্চল বন সংরক্ষক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ ও লামা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম, স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বেচু, আব্দুল জলিল, ও দেলাওয়ার হোসেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদের আগে ওমর ফারুক বেচু শ্রমিকদের বলেন তার বাগানের গাছ কাটার জন্য। তিনি আরো ৯ জন শ্রমিকসহ কাকরাঝিরি এলাকায় যান। পরে বেচু ও তার সহযোগীরা রিজার্ভ বনাঞ্চলের ৪০টি গাছ চিহ্নিত করে কাটতে বলেন। শ্রমিকরা গাছ কেটে দিলে পিকআপে তা পরিবহন করা হয়। পরে জানতে পারেন শ্রমিক উসমানের নামে মিথ্যা বন মামলা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মাতামুহুরী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, বিট অফিসার রনি ও মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত চলমান রয়েছে, রিপোর্ট শেষ হলে তা প্রকাশ করা হবে।
তবে স্থানীয়রা জানান, তদন্ত টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে আপোষ মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “৪-৫ মাস আগে ওসমান গনিকে কিছু গাছ কাটতে দেখেছি।” অন্যদিকে স্থানীয় মারমা সম্প্রদায়ের মেনথং ম্রু জানান, “গাছ কাটার সময় আমরা সেখানে ছিলাম, তবে কারা কাটছে তা জানতাম না।”

অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। যেসব গাছের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো বহু আগেই কাটা।”
এ বিষয়ে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ওসমান গনি একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত চলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া