ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নৃশংসভাবে খুন হয়েছে ১৩ বছরের শিশু মাদ্রাসার ছাত্র আমির হামজা ওরফে হানযালা। হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ঘটনায় আটক হয়েছে একই মাদ্রাসার ছাত্র ফরহাদ রেজা (১৬)। মাত্র ২০ টাকার বিরোধ থেকেই এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আলফাডাঙ্গা থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এএসপি জানান, সোমবার (২০ অক্টোবর) নিহত হানযালার বাবা সায়েম উদ্দিন বিশ্বাস থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তদন্তে দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চান্দড়া মাদ্রাসার পাশে একটি ডোবায় ভাসমান বস্তা দেখতে পান। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধারকৃত বস্তার ভেতরে পাওয়া যায় হানযালার অর্ধগলিত মরদেহ ও কয়েকটি ইট।
এএসপি আজম খান বলেন, “ঘটনার রাতে আমি মধুখালী থেকে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করি। পরে চারটি টিমে ভাগ হয়ে তদন্ত শুরু করলে আসল রহস্য উন্মোচিত হয়।”
পুলিশ জানায়, ফরহাদ ও হানযালা দুজনেই চান্দড়া তা’লিমুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র। হানযালার কাছ থেকে ফরহাদ ৫০ টাকা ধার নেয়, যার মধ্যে ৩০ টাকা ফেরত দিলেও বাকি ২০ টাকার জন্য বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই তুচ্ছ বিষয় থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।
এএসপি বলেন, “আসরের নামাজের পর ফরহাদ হানযালাকে বলে চলো, টাকা দিয়ে দিচ্ছি। এরপর ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গলা চেপে হত্যা করে।”
হত্যার পর ফরহাদ মাদ্রাসায় ফিরে এসে নামাজ পড়ে, ক্লাস করে এবং রাতে স্বাভাবিক আচরণ করে। পরদিন সকালে একটি বস্তা ও ইট নিয়ে এসে হানযালার মরদেহ ডোবায় ফেলে দেয় এবং পরে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়।
এএসপি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ফরহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা আমিনুল্লাহ বলেন, “দুজনেই আমাদের ছাত্র। এত অল্প বয়সে এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটবে, আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। পুরো মাদ্রাসায় শোকের ছায়া।”
নিহত হানযালা আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের শুকুরহাটা গ্রামের সায়েম উদ্দিন বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে। তিন মেয়ের পর একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা।
সায়েম বিশ্বাস বলেন, “আমার মাসুম বাচ্চাটা কী দোষ করল? ও তো কারও ক্ষতি করেনি! আমি আমার সন্তানের হত্যাকারীর বিচার চাই।”
ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। নিষ্পাপ হানযালার স্মৃতি এখন তার পরিবারের চোখে জল আর বেদনার প্রতীক।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © জাতীয় দৈনিক সারাদেশ ৭১